চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক অগ্রগতি হিসেবে রোবোটিক সার্জারি বড় ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই জটিল অস্ত্রোপচার সম্ভব করেছে। ১৯৭০-এর দশকে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডারপার মাধ্যমে দূর থেকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এর প্রাথমিক ধারণা শুরু হয়। পরে ১৯৮৫ সালে পুমা ৫৬০ এবং ১৯৯২ সালে রোবোডক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ২০০১ সালে নিউইয়র্কে বসে চিকিৎসকেরা ফ্রান্সে থাকা এক রোগীর পিত্তথলি সফলভাবে অপসারণ করে দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রোপচারে বড় নজির স্থাপন করেন।
বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ‘দ্য ভিঞ্চি সার্জিক্যাল সিস্টেম’ মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত—চিকিৎসকের কনসোল, রোগীর শরীরে যুক্ত রোবোটিক বাহু এবং উচ্চমানের ত্রিমাত্রিক ভিউয়ার। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসক কনসোলে বসে হাত নাড়ানোর মাধ্যমে রোবটের বাহু পরিচালনা করেন। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরায় সংকীর্ণ অঙ্গগুলো বহুগুণ বড় আকারে দেখা যায় এবং যন্ত্রটি চিকিৎসকের হাতের কম্পন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিহত করে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নির্ভুলভাবে কাজ সম্পন্ন করে।
বিশ্বজুড়ে প্রোস্টেট ও কিডনি ক্যানসারের চিকিৎসায় এই প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া হৃদ্যন্ত্রের জটিল বাইপাস, ভাল্ভ মেরামত, জন্মগত ছিদ্র বন্ধ, কিডনি প্রতিস্থাপন, পিত্তথলি ও পরিপাকতন্ত্রের অস্ত্রোপচার, জরায়ুর টিউমার অপসারণ এবং অতিস্থূল রোগীদের ব্যারিয়াট্রিক সার্জারিতেও রোবটের সফল ব্যবহার চলছে।
সূত্র: প্রথম আলো